অ্যাংলো নরম্যান যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
নবম শতকের মধ্যভাগ থেকেই স্ক্যানডিনেভীয়দের আক্রমণে ফাটল ধরতে শব্ে করেছিলো অ্যাংলো-স্যাক্সন আধিপত্যে । এই সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন রাজা আলফ্রেড । কালরুমে 'সে প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ১০১৪ সালে স্ক্যানডিনেভীয় রাজা ক্যানিউট ইংলন্ডের সিংহাসনে আসীন হন। অবশ্য স্ক্যানডিনেভীয় শাসন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে নি । ১০৬৬ খ্রীষ্টাব্দের ঐতিহাসিক 'হেসটিংসের যুদ্ধে জয়লাভ করে নরম্যান ডির ডিউক উইলিয়াম ইংলণ্ডে কায়েম করেন ফরাসী "ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির আধিপত্য, সূচিত হয় ইংরাজী সাহিত্যে মধ্যযুগীয় ‘পর্বে'র, যার বিস্তৃতি এলিজাবেথীয় নবজাগরণের সময়সীমা পর্যন্ত ।
নরম্যানদের যুদ্ধজয় ও নবজাগরণের মধ্যবর্তী পর্বে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য নাম জিতকে চসার ( Geoffrey Chaucer : খ্রী: ১৩৪০-১৪০০। চসার-পূর্বে মধ্যযুগীয় ইংরাজী সাহিত্যে কবিতাই ছিলো প্রধান ও জনপ্রিয় মাধ্যম। ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত আশ্রিত কবিতা, ধর্মীয় ও প্রচারমূলক কবিতা, রোমান্স ইত্যাদি বিভিন্ন শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এই সময়কার রচনাগুলিকে। উরস্টারশায়ারের জনৈক পাদ্রী লয়োমন { Layamon ) -এর সন্দীর্ঘ রচন 'ব্লুট' ( Brut ) ব্রিটেনের প্রাচীন ইতিহাসের ইতিবৃত্ত । জিওফ্রে অব মনমাউথ ( Geoffrey of Monmonth )-এর "হিস্টোরিয়া রেগম ব্রিটেনি' (Historia Regum Britanniae )-র ওয়েস (Wace }- কৃত ফরাসী সংস্করণ অবলম্বনে লিখিত। ধর্মীয় প্রচারমূলক রচনার শ্রেণীতে উল্লেখ করা যায় জনৈক অরা, ( Orm ) লিখিত 'অরম,লাম' (ormulum)। এছাড় রূপকধর্মী 'দ্য আউল অ্যান্ড দি নাইটিঙ্গেল ( The Owl and the Nightingale ) এবং 'পাল” ( Pearl ) ও নীতিমূলক রচনা 'পিউরিটি' (Purity ) ও 'পেসেন্স ( Patience ) এই শ্রেণীভুক্ত ! 'স্যার গাওয়েইন অ্যাড দি গ্রীন নাইট' ( Sir Gawain and the Green Knight ) এই যাগের রোমন্সগুলির মধ্যে ছিলো সর্বাধিক শিল্পসম্মত। প্লট নির্মাণে, চরিত্র-চিত্রণে ও অননুপ্রাস নির্ভর কাব্যশৈলীর বিচারে এই অজ্ঞাত পরিচয় কবি ছিলেন প্রকৃতই প্রতিভাশালী ।
দ্বাদশ শতকে রচিত 'অ্যানক্লেন রিউল' ( Aacrene Riwle ) চসার-পূর্ব যুগের প্রধান গদ্য রচনা । স্বেচ্ছাব্রতে রতী তিন খ্রীস্টিয় সাধ্বীর জন্য লিখিত ও পরে সাধারণের ব্যবহারের প্রয়োজনে পরিমার্জিত এই ধর্মীয় নির্দেশিকা উল্ফ স্টানের গদ্যের ধারারই অনুসারী ! একই ধারাবাহিকতায় ১৬১১ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিলো বাইবেলের স্বীকৃত সংস্করণ ( Authorised Version ) ।
চসারঃ চসার ( ১৩৪০ - ১৪০০ )-এর সাহিত্যক্ষেত্রে আত্মপ্রকাশ ফরাসী এবং ইতালীয় রচনা সমূহের অনুবাদক রূপে, শিক্ষানবীশের ভূমিকায়। এই দুই অননুবাদ পর্বে'র উল্লেখযোগ্য রচনা 'দি বংক অব দি ডাচেস' ( The Book of the Duchesse ) “দি রোমান্স অব দি রোজ' ( The Romaunt of the Rose ) 'দি হাউস অব ফেম' ( The House of Fame ), 'দি পার্লামেন্ট অব ফাউলস্ { The Parliament of Foules ও 'দি লিজেন্ড অব গড উইমেন' | The Legende of Good Women) | তবে চসারের শ্রেষ্ঠ কীর্তি 'দ ক্যান্টারবেরি টেস' (The Canterbury Tales ) । মধ্যযুগীয় অর্থনৈতিক-ধর্মীয় জীবনের এক ইংলণ্ডের সামাজিক- অসামানা দর্পণ এই গল্প সংগ্রহ । বোকাচিঙৰ গল্পমালার ছকে লেখা এই রচনা সামগ্রিক পরিকল্পনার নিরিখে অসম্পূর্ণ হলেও রসবোধ, জীবনস্পৃহা, বাস্তবতাবোধ ইত্যাদির গাণে অবিস্মরণীয়।
চসারের সমকালীন ও অনুগামীরা :
চসারের সমসাময়িকদের মধ্যে নাম করা যেতে পারে 'পিয়াস' প্লাউম্যান' ( Piers Plowman ) নামক স্বপ্ন-র পক ( Dream Allegory :-এর রচয়িতা উইলিয়াম ল্যাংল্যান্ড ! Villiam Langland ) ও 'কনফেসিও অ্যামানটিস (Confessio Amantis )-এর কবি জন গাওয়ার ( John Gower?-এর। গদ্যলেখকদের মধ্যে ছিলেন স্যার জন ম্যান্ডেভিল ( Sir John Mandeville ), জন উইক্লিফ । John Wycliffe ) এবং বিখ্যাত গদ্য রোমা Morle d' Arthur-এর লেখক স্যার টমাস ম্যালোরি ( Sur Thomas Malory | এছাড়া স্কটিশ কবি রবার্ট হেনরিসন, উইলিয়াম ডানবার, গেউইন ডগলাস প্রমথে ছিলেন চসারের অননুগামী। অন্যান্য কবিদের মধ্যে নাম করা যায় জন লিডগেট, টমাস ওক্লিভ ও স্টিফেন হসের ।
মধ্যযুগে নাটকের ক্রমৰিবৰ্ত্তন :
এই মধ্যযুগীয় পর্বেই লক্ষ্য করা গিয়াছিলো নাটকের ক্রমবিকাশের ধারা। চার্চের অভ্যন্তরে যে নাট্যচর্চার সূত্রপাত তা' কালক্রমে চার্চের পরিধি ছাড়িয়ে এসে গেলো পথে কিম্বা হাটে-বাজারে। নিয়ন্ত্রণও চলে এলো ধর্ম যাজকদের কাছ থেকে সাধারণ জীবিকানির্বাহকারী নাট্যা- মোটা ও সংগঠকদের হাতে। ধর্মীয় প্রার্থনার অঙ্গ বা সূত্র হিসেবে গাঁজার ভেতরে যে নাট্যাভিনয়ের প্রথম প্রয়াস তাই কালক্রমে ত্রয়োদশ, চতুদশ ও পশ্চাদশ শতকে ইংলন্ডের বিভিন্ন শহরে চক্রাকারে অভিনীং হোতো। চলমান দৃশ্যেসজ্জায় বিভিন্ন ইতিব, ও—বাইবেলের নতুন ও পারনো নিয়মের ঘটনা সমূহে-- পরিবেশন করত ৰাণিজ্যিক সংঘগুলি। মিস্ট্রি ( Mystery ) নাটকের তিনটি পূর্ণাঙ্গ ও একটি খণ্ড 'চবু’না cycle'-এর খোঁজ পাওয়া গেছে। এরই সমকালীন 'মিরাকল' (Miracle ) নাটকগুলি, কুমারীমাতা মেরী ও অপরাপর সন্তদের অলৌকিক কাহিনী নিয়ে রচিত হয়ে ছিলো এই নাটক। পরবর্তী পর্যায়ে নাটার পকের ছাঁদে এলো 'মর্যালিটি', : Morality ) — একদিকে পাপ আর অন্যদিকে পণ্যের দ্বন্দ্ব ও পাপের পরাজয়ের ও পন্যের বিজয়ের নিশ্চিত পরিণতি। 'এভারিম্যান ( Everyman, 1510 ) মর্যালিটি নাটকের সেরা নিদর্শন । 'মর্যালিটি' ও এলিজাবেথীয় কমেডির রূপান্তর-পর্বে সংক্ষিপ্ত প্রহসনধর্মী এক ধরনের নাটকের প্রচলন করেছিলেন হেনরি মোডওয়াল এবং জন হেউড । এই মধ্যবর্তী নাটিকার নাম ছিলো 'ইন্টারল ডেস্' (Interludes ), প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে বাংলা নাটকের উদ্ভবের আদিপর্বেও অনরপে ধর্মীয় তথা লৌকিক শিকড়ের সন্ধান পাওয়া যায়। যাত্রা, পাঁচালী, তরজা ইত্যাদির পথ- ধরেই বাংলা রঙ্গমঞ্চে নাট্যচর্চা বিকশিত ও বিবর্তিত হয়েছে । Mystery অতিক্রম করে পূর্ণাঙ্গ নাটকের নিকোলাস উডল ( Nicholas Miracle Morality - Interlude-এর পর্যায়গুলি আত্মপ্রকাশ ঘটলো ষোড়শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে। Udall )- এর Ralph Roister Doister ( 551 ) ও সাকভিল ও নর্টন ( Sackville and Norton ) -এর Gorboduct (1562 ) ছিলো যথাক্রমে প্রথম কমেডি ও প্রথম ট্র্যাজেডি নাটক ।
চসার পরবর্তী পর্বের গত্য : চসার-পরবর্তী তথা মধ্যযুগীয় ইংরাজী সাহিত্যের শেষ পর্যায়ে গদ্যশৈলীর চর্চা ও মান উন্নয়নের কাজে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছিলেন স্যার টমাস মোর ( Thomas More ) ও কতিপয় লেখক, অনুবাদক যেমন, উইলিয়াম টিনডেল ( William Tyndale ), হিউ ল্যাটিমার ( Hugh Latimer ), জন ফিশার (John Fisher) প্রমখ। মোর। রচিত ‘ইউটোপিয়া' { Utopia )-য় আমরা পেয়েছিলাম এক কল্পিত কল্যাণ রাষ্ট্রের ছবি টিনডেল ও অন্যান্যরা অনুবাদ করেছিলেন 'বাইবেল'; রচনা করেছিলেন ধর্মীয় বাণী তথ্য উপদেশমালা ইত্যাদি। রিফর্মেশান আন্দোলনের সংগে এইসব রচনার ছিলো প্রত্যক্ষ যোগ ।
প্রথম এলিজাবেথের যুগ :
এলিজাবেথের যুগ শেক্সপীয়ারের খগ, নবজাগরণের যুগ । এই যুগের প্রেক্ষাপট ও মানসমণ্ডল স্বতন্ত্রভাবে আলোচিত হয়েছে। এলিজাবেথীয় সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ শেক্সপীয়ারের রচনা সমূহের বিশদ আলোচনাও আছে একই পরিচ্ছেদে। এলিজাবেথীয় যুগে কাব্যসাহিত্যে প্রধান দুটি নাম এডমণ্ড স্পেনসার ( Edmund Spenser) ও ফিলিপ সিডনী ( Philip Sidney )। দি শেপার্ডস ক্যালেডার ( The Shepherd's Calender )-এর মতো প্যাস্টোরাল ! Pastoral } কাব্য ও 'অ্যামোরেটি' ( Amoretti) নামক চতুর্দশপদী কবিতা সংকলন ছাড়াও স্পেনসারের কবি খ্যাতি মূলতঃ রূপকধর্মী মহাকাব্য 'দি ফেয়ারি কুইন' (The Faerie Queene, 1590 )-এর জন্য । এক জটিল ও বিপুলায়তন রচনা 'The Faere Queene, যার পরিকল্পিত বারোটি সর্গের মধ্যে দু'বারে প্রকাশিত হয়েছিলো মোট ছ'টি সর্গ । লাতিন কবিতার দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্ব অ্যারিওস্টো এবং ট্যাসোর অনবর্তী স্পেনসার বীরগাথা ও রূপকের মিশ্রণে এক দূরহ মহাকাব্য নির্মাণ করেছিলেন যার কেন্দ্রে গ্লোরিয়ানা, যিনি রাণী এলিজাবেথেরই প্রতীকি ন প আর যাঁর সন্ধানে রতী রাজা আর্থার। ওয়াএট এবং সারে চতুর্দশপদী কবিতাকে ইংরাজী কাব্যসাহিত্যে প্রবর্তন করেছিলেন । এদের সনেটগুলি অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলো ‘টটেল-এ মিসেলানি' । Tottel's Miscellany ) নামে ১৫৫৭ সালে প্রকাশিত এক মিশ্রসংকলনে। স্যার ফিলিপ সিডনী তাঁর 'অ্যাস্ট্রোফেল অ্যান্ড স্টেলা' । Astrophel and Stella, 1591 নামক ১০৮ খানি সনেটের সংকলিত গচ্ছে পেত্রাকীয় এই কাবার, পকে এক উজ্জল আসন দিয়েছিলেন। সিডনীর সপর রচনা 'আর্কেডিয়া' ( Arcadia ) একটি প্যাস্টোবাল রোমান্স যাতে মধ্যযুগীয় শৌর্য-বীর্য ও প্রেমের মহিমা এক চিত্রোপম, গীতিময় ভাষায় তুলে ধরেছিলেন সিডনী ।
এলিজাবেথীয় যুগের গদ্যলেখকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় নাম ফ্রান্সিস বেকন Francis Bacon ) । লাতিন ও ইংরাজী, উভয় ভাষাতেই পারদর্শী বেকনের ইংরাজী রচনাগুলির মধ্যে তাঁর প্রবন্ধাবলী' ( Essays ), 'দ্য প্যাড ডান্সমেন্ট 'অব লার্নিং' (The Advancement of Learning ) ও 'দি নিউ অ্যাটলান্টিস' ( The New Atlantis) বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সরস অথচ সংক্ষিপ্ত বাক্যগঠন, আলোচিত বিষয়সম হের উপযোগিতা, প্রখর বাস্তবজ্ঞান ইত্যাদি বেকনের রচনার প্রধান আকর্ষণ । অপরাপর গদ্যকারদের মধ্যে ছিলেন রজার এ্যাস্টাম (Ruger Ascham ), জন লিলি (John Lyly ), রিচার্ড হবার ( Richard Hooker ) প্রমখ।
এই গ্রন্থের শেক্সপীয়ার পরিচ্ছেদে এলিজাবেথার যুগের নাটকের বিশেষ জন- প্রিয়তা ও বিভিন্ন নাট্যশালার প্রসিদ্ধির কথা বলা হয়েছে। অকস্ ফোড ও কেমব্রিজ প্রত্যাগত তরুণ নাট্যকারেরা, যেমন, পিল ( Peele, গ্রীন ( Greene ) লজ ( Lodga ) ন্যাশ ( Nashe ), কিড ( Kyd ) ও মারলো ( Marlowe ) নাট্যচর্চার এক উদ্দীপক না তাবরণ তৈরী করেছিলেন যা শেক্সপীয়ানের বিচিত্রম খী প্রতিভার বিকাশে সহায়ক হয়েছিলো। এরা পরিচিতি লাভ করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিভা' ( University Wits) নামে। এই নাট্যকার-সম্প্রদায়ের মধ্যে মারলো ছিলেন, সর্বাধিক খ্যাতিমান । তাঁর •নাট্যচতুষ্টয়~'ট্যামবাবলেইন' ( Tamburlaine ), 'ডক্টর ফস্টাস' ( Doctor Faustus ) 'দি জিউ অব মাল্টা' । The Jew Malta ) ও ‘এডওয়ার্ড' দি সেকেণ্ড' ( Edward II ) — ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাসে স্থায়ী আসনে প্রতিষ্ঠত। কিছু খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তাঁর সেনেকা-রীতির ট্রাজেডি- নাটক "দি স্প্যানিশ ট্র্যাজেডি (The Spanish Tragedy )-র সূত্রে বেন জনসন ও অপ্রধান নাট্যকারগণ : শেক্সপীয়ারের সমসাময়িক নাট্যকারদের মধ্যে সর্বাগ্রে উল্লেখ করা যায় বেন জনসন ( Ben Jonson )- এর নাম । ধর্মপদী নাট্যকারদের অনুসরণে ব্যঙ্গাত্মক ও বাস্তবনিষ্ঠ কমেডি-নাটক রচনায় জনসন ছিলেন সিদ্ধহস্ত। প্লটাস ও টেরেন্সের নাট্যাদর্শে প্রাণিত জনসন যে নতুন স্বাদের কমেডি লিখতে চাইছিলেন তার একটি রূপরেখা পাওয়া গিয়েছিলো৷ এভ রিম্যান ইন হিজ হিউমার'-এর ভূমিকা তথা Prologue-এ :... deeds and language such as men do use, / And persons such as comedy would choose/When she would show an image of the times/ And sport with human follies, not with crimes.” 'কমেডি অব হিউমারস' ( Comedy of Humours) নামে বিশেষ এক জাতের কমেডি উপহার দিয়েছিলেন জনসন যার প্রধান আকর্ষণ ছিলো তীব্র শ্লেষ, বিচিত্র নাগরিক চরিত্রসমূহ ও বাস্তব সমাজচিত্র। 'এন্ড্রু রিম্যান ইন হিজ হিউমার' ( Every Man in his Humour, 1598 ) 'ভলপোনে' ( Volpone, 1605 ), 'দ্য অ্যালকেমিস্ট' (The Alchemist 1610 ) এবং বার্থোলোমিউ ফেয়ার' ( Bartholomew Fir, 1614 ), জনসনের কয়েকটি পরিচিত নাটক । প্রায় একই সময়ের অপরাপর নাট্যকারদের মধ্যে নামাল্লেখ করা যায় ফ্রান্সিস বোনণ্ট (Fracis Beaumont ) ও জন ফ্লেচার (Join Fletcher ), জর্জ চ্যাপম্যান ( George Chapman ), জন মার্সটন ( Juha Marston ) ও টমাস ডেকার ( Thomas Dakker ) -এর।
জ্যাকোৰীয় যুগ :
শেক্সপীয়ার-পরবর্তী ইংরাজী নাটকে এক ধরনের অবনমন তথা অবক্ষয় লক্ষ করা যায় । শেক্সপীয়ারের বিশালতা, চিন্তন ও মননের বিস্তার, চরিত্রচিত্রণে মহিম- ময়তা ইত্যাদির বদলে আমরা পেলাম ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে, হল হাস্য-পরিহাস, শঠতা, তঞ্চকতা, হিংসা, হত্যালীলা ইত্যাদি। এই অবক্ষয় তথ্য 'Decadence'-এর লক্ষণ নজরে পড়ে জন ওয়েবস্টার ( John Webarer )-এর "দি ডাচেস অব মাফি’ ( The Duchess of Malhi, 1614), টমাস মিডলটন ( Thomas Middleton ) এর 'দি চেঞ্জলিং' (The Changeling, 162 1 ) প্রভৃতি নাটকে। এই প্রসঙ্গে আর এক নাট্যকার জন ফোর্ড ( John Ford ) -এর উল্লেখ করা যায় ।
মেটাফিজিক্যাল কবিসম্প্রদায় :
এলিজাবেথ তথা শেক্সপীয়ারের যুগের আর এক প্রভাবশালী কবি ছিলেন জন ডান ( John Donne ) যাঁর কবিকৃতির স্বতন্ত্র উল্লেখ অপরিহার্য ! স্পেনসার ও তাঁর অনুগামী কবিদের প্রথাসর্বস্ব রোমান্টিকত ও চিত্রকল্পের গতানগেতিকার বিরুদ্ধে ডানের প্রেন ও ঈশ্বরবিষয়ক কবিতাগুলি এক নতুন ধারার প্রবর্তন করেছিলো। চিত্রকল্পের অভিনবত্ব, আবেগ ও মুক্তির ঐক্যবিধান, বুদ্ধিদীপ্ত রসবোধের প্রকাশ, কথ্যভঙ্গীর আদলে এক চমকপ্রদ ভাষা ও আঙ্গিকের ব্যবহার, চিন্তার গভীরতা ইত্যাদি ছিলো ডান ও তাঁর অনুগাম 'মেটাফিজিক্যাল' (Metaphysical ) কবিসম্প্রদায়ের রচনার বৈশিষ্ট্য। ড্রাইভে ( Dryden ) তাঁর 'ডিসকোর্স অব স্যাটায়ার' { Discourse of Satire )- এ ১৬৯৩ এর সালে ডানের কবিতাপ্রসঙ্গে 'মেটাফিজিক্যাল' শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। অনেক পরে ১৭৭৯ খ্রীস্টাব্দে ড. স্যামুয়েল জনসন ( Samuel Johnson ) ডান, কাউলে ( Cowley ) প্রমুখে কয়েকজন কবির রচনা প্রসঙ্গে শব্দটিকে সম্প্রসারিত করেন। অ্যান্ড্রু মার্ভেল ( Marvell ) জর্জ হাবার্ট ( Herbert ), হেনরি ভন (Vaughan) ও রিচার্ড' রুশ (Crashaw) ছিলেন এই বৌদ্ধিক কাব্য ধারার অপরাপর প্রতিনিধি স্থানীয় কবি চকিত চমকের নাটকীয় রঢ়তায় পাঠককে নাড়িয়ে দিয়ে (ধরা যাক, ‘ডানের দো সানরাইজিং'-এর সেই প্রথাবিরোধী প্রারম্ভিক লাইনটি – ( Busy old fool, unruly Suo'...), সম্পূর্ণ বিপরীত ও বেমানান দুটি বস্তুর মধ্যে বেয়াড়া ধরনের সাদৃশ্যে সন্ধান করে ( স্মরণীয়, ডানের কবিতা 'আ ভ্যালিডিকশন : ফরবিডিং মোনিং'- এ প্রেমিক ও প্রেমিকাকে একটি কম্পাসের দুটি পায়ের সঙ্গে তুলনা করা ). লিরিক কবিতায় যুক্তি-তর্কে'র প্রখর পারম্পর্য' আমদানি করে (ভাবনে তো মার্ভেলকৃত ‘ট, হিজ’ কয় মিস্ট্রেস' কবিতায় 'If-But - Therefore-এর ‘সিলোজিসম' ), রোমান্টিক ও আদর্শায়িত নারীবিগ্রহের প্রেমপজার পেহাকীয় ধারাকে বাতিল করে দিয়ে মেটাফিজিক্যাল কবিরা ইংরেজী কাব্য সাহিত্যে যুক্ত করলেন এক স্বতন্ত্র মাত্রা ।
এলিজাবেথীয় তথা জ্যাকবীয় ( রাজা প্রথম জেমসের শাসনাধীন যুগ : (১৬০৩-২৫) যুগের পরবর্তী সময়কাল সাধারণভাবে মহাকবি মিলটনের যুগের পে চিহ্নিত। ১৬৬০-এ রাজতন্ত্রের পুনের জীবন (Restoration পর্যন্ত এই ঋগের সীমা নির্ধারিত হয়ে থাকে যদিও মিলটনের অধিকাংশ স্মরণীয় রচনা Restoration- এর পরেই প্রকাশিত হয়েছিলো। মিলটনের যুগের প্রেক্ষিত ও তাঁর সমস্ত রচনার বিশদ বিবরণ এই বইয়ের স্বতন্ত্র অধ্যায়ে আছে। তাই মিলটন বাদে অন্যান্য কৰি- লেখকদের প্রসঙ্গে এখানে আলোচনা করা হোলো ।
ক্যারোলাইন যুগ :
১৬২৫ থেকে ১৬৪৯ - আলোচ্য যুগপর্বের এই ভাগকে 'ক্যারোলাইন' ( Caroline ) বগও বলা হয়ে থাকে রাজা প্রথম চার্লসের নামের সূত্রে। গৃহযুদ্ধ- লাঞ্ছিত এই যুগে রাজার সমর্থকবৃন্দ পরিচিত ছিলেন 'ক্যাভালিয়েন্স' ( Cavaliers ) নামে । আর এই সময়ে রাজসভার সংগে সম্পর্কিত একদল কবি রিচার্ড' লাভলেস (Lovelace), জন সাকলিং (Suckling), রবার্ট হেরিক (Herrick) এবং টমাস ক্যারিউ ! Crew ) -- প্রেম ও বীর্যবত্তা বিষয়ক কবিতা রচনা করে Cavalier কবিগোষ্ঠীর,পে চিহ্নিত হয়েছিলেন। ডানের অনুসারী 'মেটাফিজি- ক্যাল' কবিরা—হাবার্ট, ভন, মার্ভেল ও রুশ-এই যুগেই কাব্যরচনায় নিয়োজিত ছিলেন ।
মিলটনের যুগে গদ্যের গণগত ও পরিমাণগত বিকাশ হয়েছিলো এলিজাবেথীয় সপ্নের ধারাবাহিকতায়। ধর্মবাণী, প্রচার পতিকা সহ নানাবিধ রচনা যেমন পাওয়া গিয়েছিলো, তেমনি গদ্যশৈলীরও প্রভূত উন্নতি হয়েছিলো। 'রিলিজিও মেডিচি' ( Religio Medici) ও 'আর্ন' বেরিয়াল' (Uro Burial )-এর লেখক স্যার টমাস রাউন ( Browne) ছাড়াও গদ্যকারদের মধ্যে ছিলেন টমাস হবস ( Hobbes ), জেরেমি টেইলার (Taylor) ও ক্লারেনডন ( Clarendon ) ! নাটকের দিক থেকে দেখলে শেক্সপীয়ার-উত্তর এই কমনওয়েলথ, ও ধর্মীয় রক্ষণশীলতার যগ মোটের ওপর ফলপ্রস, ছিলো না। ম্যাসিপ্পার ( Missinger ) এলিজাবেথীয় নাট্যধারারই অনবর্তী ছিলেন : আর ফোর্ড ( Ford) ওয়েবস্টার ও টার্নারের জ্যাকোবীয় ট্র্যাজেডীর ধারাকেই সম্প্রসারিত করেছিলেন । অবশেষে ১৬৪২ খ্রীস্টাব্দে নাট্যশালাগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয় ।
রাজতন্ত্রের পুনঃ প্রতিষ্ঠার যুগ :
দ্বিতীয় চার্লসের রাজমকুট ফিরে পাওয়ার মধ্য দিয়ে রাজতন্ত্রের পুনবার্সন হোলো ইংলণ্ডে ১৬৬০-এ। পিউরিটান মূল্যবোধ ও নিয়মনিষ্ঠা-শাসিত অর্গলাবদ্ধ সমাজমানস বাঁধভাঙ্গা আনন্দে মুখর হয়ে উঠলো। নাট্যশালাগুলি খুলে গেলো ; কফি হাউসের আড্ডাও জমে উঠতে থাকলো। অবশ্যই এই আনন্দ-কোলাহলে ইন্দ্রিয়াতিশয্য তথা রুচিহীনতার কল,ষ যথেষ্টই ছিলো; যদিও পিউরিট্যানিজম-এর 'অচলায়তনে অবরদ্ধে সমাজমানসের এই নব প্রবৃত্তিকে এক নতুন জীবন-জিজ্ঞাসার সচক বলেও মনে করা যেতে পারে। দ্বিতীয় চার্লসের রাজত্বকাল বিশেষভাবে বিঘ্নিত হয়েছিলো ধর্মীয় তথা রাজনৈতিক বিতর্ক ও ষড়যন্ত্রে। চার্লসের উত্তরসূরী রাজভ্রাতা জেমসের সিংহাসন লাভ বানচাল করতে বোনা হয়েছিলো চক্রান্তের কটেজাল । ড্রাইডেন ( Dryden ) এই নিয়েই লিখেছিলেন রাজনৈতিক রূপক- কাবা 'অ্যাবসালোম অ্যাড অ্যাকিটোফেল' ( Absalom and Achitophel, 1681 )
এই যুগের সাহিত্যের স্বাভাবিক স্ফুর্ত্তি ঘটেছিলো ব্যঙ্গাত্মক কাবা ও পরিহাস বিদ্রূপম খের কমেডি-নাটকে, বিশ্লেষণ, ক্তিপ্রাথর্ষ, বস্তুনিষ্ঠা, প্রজ্ঞাধর্মী মনন ইত্যাদি ছিলো ড্রাইডেনের যুগের সাহিত্যের সামান্য লক্ষণ। কল্পনাপ্রবণতা, গীতিকবিতার উচ্ছাস, মহাকাব্যের বিস্তার- এ সমস্ত এই যুগের মেজাজের সংগে আদৌ মানানসই ছিলো না।
তাঁর কবিতা শানিত ভাষায়, তাঁর কাব্য- ড্রাইডেন (১৬৩১-১৭০০) এই যাগের প্রধান কবি ও নাট্যকার। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে রচিত মননশীল ব্যঙ্গাত্মক রচনা । নির্দিষ্ট কাব্যকাঠামোয় যক্তি ও পরিমিতি বোধের শৃঙ্খলায় ড্রাইডেন গুলিকে নিপণ সংহতি দান করেছেন। তাঁর বিখ্যাত রূপকাশ্রয়ী ব্যঙ্গকাব্য "অ্যাবসালোম অ্যান্ড অ্যাকিটোফেল'-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাপর রচনাগুলির মধ্যে ছিলো রাজনৈতিক কবিতা 'দি মেডাল' (The Medal ) এবং অপেক্ষাকৃত স্থূল ও ব্যক্তিগত রোষে পূর্ণে ব্যঙ্গরচনা 'ম্যাককেনো' (Macflecknoe) |
রেস্টোরেশন যুগের সার্থক প্রতিফলন ঘটেছিলো ইথারেজ ( Etherege ), কনগ্রীড ( Congreve ), উইচারলি ( Wycherley ), ভ্যানব্লাগ ( Vandrugh ), ফাকরি ( Parqnhar ) প্রমথ নাট্যকারদের সরস ও বাকচাতুর্যপূর্ণ কমেডিগলিতে। অভিজাত নারী-পুরুষদের প্রণয়-দ্বন্দ আমোদ-প্রমোদ, চলন-বলন ইত্যাদি টিনাটি বিবরণ ছিলো এই সমস্ত কমেডির উপাদান। সমকালীন সমাজজীবনের সরল লিপিচিত্র, প্রতিনিধিলেক চরিত্রসমূহ, রঙ্গ-ব্যঙ্গ, এই 'কমেডি অব ম্যানার্স ( Comedy of Manners ) কে দান করেছিলো অসামান্য উপভোগ্যতা । অবশ্য রেস্টোরেশান যুগের কদর্যতা ও স্থূলতা এই জাতের কমেডিগগুলিতে অভিব্যক্তি লাভ করায় নাটকগুলি সম্পর্কে অনেকেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে থাকেন র্জ ইথারেজ রচিত 'দি ম্যান অব মোড' (The Man of Mode, 1676)-ই এই বিশেষ গোত্রের কমেডির সূত্রপাত করেছিলো। উইলিয়াম কনগ্ৰীভ এই কমেডিকে দিলেন স্থায়িত্ব। চরিত্রচিত্রণের ক্বতিত্বে ও সরস তথা চাতুর্য মণ্ডিত সজীবতায় কনগ্রীভের 'দি ওল্ড ব্যাচিলার' ( The Old Bachelor ), 'দি ডাবল ডিলার' ( The Double Dealer), 'দ্য ওয়ে অব দ্য ওয়ালড" ( The Way of the World ) ইংরাজী নাটকের ইতিহাসে পেলো স্থায়ী আসন। উইচারলি একই নাট্যপ্রকরণে উপহার দিয়েছিলেন চারখানি কমেডি। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য 'লাভ ইন এ উড়, ( Love in a Wood ) ও “দি কানট্রি ওয়াইফ” ( The Country Wite ) । একই প্রসঙ্গে নাম করা যায় ভ্যানরাগের “দি রিল্যাপস' (The Relapse ) ও দি প্রোভোকড় ওয়াইফ' ( The Provok'd Wife) এবং ফাকারের 'দি রিক্সাটিং 'অফিসার' (The Recruiting Officer) ও 'দি বোকস্; স্ট্র্যাটাজেম' (The Beaux Stratagem ) ।
এলিজাবেথীয় ট্রাজেডির অনকরণে প্রেম ও বীরত্বের কাহিনী অবলম্বনে আবেগের আতিশয্য ও ভাষার আড়ম্বরতায় পূর্ণ এক ধরনের ট্র্যাজেডি ( Heroic Tragedy ) লেখা হয়েছিলো রেস্টোরেশানের যাগে। ড্রাইডেনের 'আউরংজেব' ( Aurangzebe ) ও 'অল ফর লাভ' ( All for Love ) ছাড়া টমাস অটওয়ে ( Otway ) রচিত 'ডেনিস প্রিজার্ভড' ( Venice Preserved )-এর মতো নাটক উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় ৷ এই যুগের অন্যান্য কবি লেখকদের মধ্যে ছিলেন আগ্রাসী ব্যঙ্গকাব্য 'হাডিরাস' ( Hadibras )-এর
পিউরিটানদের বিরুদ্ধে লেখা রচয়িতা স্যামুয়েল বাটলার ( Butler ), বাইবেল আশ্রয়ী গদ্য রূপক "দি পিলগ্রিমস, প্রোগ্রেস' (The Pilgrim's Progress) -এর লেখক জন বানিয়ান ( Bunyan) ও দুই কড়চা লেখক (Dianists ) - স্যাময়েল পেপিস ( Pepys) ও জন ইভলিন (Evelyn ) ।
অষ্টাদশ শতক ৷৷ পোপের যুগ :
কবি ম্যাথ, আর্নল্ড (Arnold) অষ্টাদশ শতকের ইংলণ্ডকে অভিহিত করেছিলেন গদ্য ও মুক্তির যুগ' (Age of Prose and Reason ) হিসেবে। এই শতকের প্রথমার্ধ, অর্থাৎ আলেকজান্ডার পোপ ( Pope )- এর যুগ 'আগাস্টান এজ' (Agustan Age ) রূপেও চিহ্নিত হয়ে থাকে। স্থিতিশীল ও স্বচ্ছন্দ অভিজাত শাসনের অধীন ইংলণ্ডে এ সময়ে সর্ব প্রকার গদ্যের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছিলো। রাজনৈতিক তথা অন্যান্য বিশ্লেষণী রচনা, সংবাদ ও সাময়িকপত্রের প্রকাশনা, উপন্যাসের ক্রমবিস্তার ইত্যাদি স্বভাবতই এ যুগকে 'গদ্যের মর্গে' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। যুক্তিনিষ্ঠা, নিয়মের অনুশাসন, আবেগাতিশয্য বর্জন, সক্ষম পরিমিতিবোধ কেবলমাত্র সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনচর্যার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ভার্জিল (Virgil ), হোরেস ( Horace ), ওভিড ( Ovid ), সিসেরো ( Cicero) প্রমখ মহাপ্রতিভাধর কবি লেখকদের রচনা ও জীবনাদর্শ সমদ্ধ সম্রাট অগাস্টাস ( Augustus ) -এর 'ক্ল্যাসিক্যাল' যুগের সংগে সাদৃশ্য থাকায় অষ্টাদশ শতকের প্রথম ভাগকে 'নব্য-ক্ল্যাসিকাল' তথা 'অগাস্টান' যুগ বলে অভিহিত করা হয়। প্রজ্ঞাবাদী মনন ছিলো এ যুগের সাহিত্যের মৌল প্রেরণা । 'কল্পনা ( Imagination ) কে সম্পূর্ণ বিসর্জন দেওয়া হয়েছিলো 'দন্তি' ( Reason ) সাধারণ ‘দ্ধিবৃত্তি' { Common Sense )-র কাছে ।
এই পর্বে'র গদ্য লেখকদের মধ্যে ছিলেন জোনাথন সইফট্ ( Swift ), জোসেফ অ্যাডিসন ( Addison ), রিচার্ড স্টিল (Steele ) ও ড্যানিয়েল ডেফো (Defoe ) ।' পরিশীলিত ও ঋঙ্গ, শ্লেষাত্মক গদ্যরচনায় ব্যঙ্গলেখক সইফট্ ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর অনন্য ব্যঙ্গ রূপক 'এ টেল অব এ টাব' (A Tale of a Tub, 1704 ) বহু পরিচিত, বিধ্বংসী রচনা 'গালিভার্স ট্রাভেলস ( Guiliver's Travels, 1726 ) সাইফটাকে সাহিত্যের ইতিহাসে স্থায়ী আসন দিয়েছে। টমাস মোরের ইউটোপিয়ার আসলে, জনৈক নাবিক ক্যাপটেন লেমলে গালিভাবের সমদ্রযাবার রোমহর্ষক অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে চারখণ্ডে সাইফট, ধর্ম-রাজনীতি বিজ্ঞান-দর্শনের ক ফলগলি, মানুষের দম্ভ ও বিচ্যুতিকে যেভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের কষাঘাতে জর্জরিত করেছেন তাতে করে কেউ কেউ সাইফটাকে ঘোর মানববিদ্বেষী বলে রায় দিয়েছেন।
‘ট্যাটলার' (Tatler) ও 'স্পেকটেটর' (Specator), এ দুটি সাময়িকপত্রকে আশ্রয় করে এ যুগের গদ্যে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন অ্যাডিসন ও স্টিল। সরস ও সাবলীল গদ্যে লেখা অ্যাডিসনের প্রবন্ধ-নিবন্ধগুলি ঐ দুই সাময়িক পত্রের পাতায় এক ভিন্ন স্বাদ,তার জন্ম দিয়েছিলো। এভাবেই পাঠকেরা সংখচিত্তে স্পেকটেটরের প্রত্যেক সংখ্যায় মিলিত হতেন স্যার রজার ডি কভারলি, স্যার অ্যান্ড্রু, ফ্রিপোর্ট প্রশ্নে চরিত্রের সংগে । বিভিন্ন স্বাদের প্রবন্ধাদি রচনায় স্টিল ছিলেন অ্যাডিসনেরই সঙ্গী । যদিও অ্যাডিসনের মতো নিপণে শিল্পরীতি স্টিলের আয়ত্তে ছিলো না । এছাড়া 'রেস্টোরেশন কমেডি'র অনুকরণে স্টিল কয়েকটি কমেডি-নাটকও রচনা করেছিলেন। তবে স্টিলের লেখা 'দ্য ফিউনারাল' (The Funeral, 1701 ) এবং 'দ্য কনশাস লাভার্স' ( The Conscious Lovers, 1722 ) ছিলো সম্ভ্রান্ত মধ্যশ্রেণীর নীতিবোধের দর্পণ। রঙ্গ-ব্যঙ্গর পরিবর্তে এ ধরনের নাটকে প্রাধান্য ছিলো করণেরসের। গার্হস্থ্য জীবনের শুভাশভ, নীতিবোধ, অতিনাটকীয়তা ইত্যাদি ছিলো এই 'Sentimental Comedy'-র বিষয় ও বৈশিষ্ট্য। ফ্রান্সে এই ধারায় জন্ম নিয়েছিলো Comedie lasmoyante' বা 'tearful comedy' স্টিলের নাট্যভাবনার অনুসারী হিউ কেলি ( Hugh Kelly)-ব 'ফলস ডেলিকেসি', i False Delicacy, 1768 ) যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ।
'রবিনসন ক্রুসো' (Robinson Crusoe, 1719-র লেখক ডেফে। বাজনৈতিক তথ্য সাংবাদিকতার লক্ষণধর্মী বিচিত্র গদ্যরচনাতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন। বাস্তবধর্মীতা পঙ্খোন,পঙ্খ বিবরণ, বলিষ্ঠ গদ্যরীতি ছিলো ডেফোর রচনার স্মাকর্ষণ। তাঁর অন্যান্য উপন্যাসগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য 'ক্যাপটেন সিঙ্গলটন' ( Captain Singleton, 1720 ), 'মল ফ্ল্যা‘ডাস' ( Moll Flanders ), 'রোশানা' ( Roxana ) প্রভৃতি। সমদ্রে যাত্রা, ভ্রমণ-রোমাঞ্চ, জলদস্যুতার নানা ঘটনার বিবরণে ডেফোর উপন্যাসগুলি বিশেষ চিত্তাকর্ষক। ইংরেজী সাহিত্যে উপন্যাস-শিল্পের অন্যতম সূচনাকারী হিসেবে তিনি বিশেষভাবে স্মরণীয়।
এই যুগের মধ্যমণি পোপ। ধ্রুপদী সাহিত্যদর্শনের সাধনায় পোপ ছিলেন একনিষ্ঠ। ব্যঙ্গবিদ্রূপের তীক্ষমতায়, কাব্যরূপের সংষম গঠনে, বক্তব্যের সংক্ষিপ্রতার পোপ তাঁর যুগের কেন্দ্রবিন্দ। প্রথম জীবনের নিসর্গ বিষয়ক রচনা, 'প্যাস্টোরালস' { Pastoral, 1709 ) ও 'উইন্ডসর করেস্ট' ( Windsor Forest, 1713 ) বাদ দিলে পোপের প্রতিভার স্ফূর্তি' ঘটেছিলো 'বাঙ্গ-মহাকাব্য' ( Mock Heroic । 'দি বেপ অব দি লক' (The Rape of the Lock, 1712 ) -এ । সমকালীন অভিজাত সমাজের কপটতা ও অনাচারকে যে নিতে পারিপাট্যে তুলে ধরেছেন পোপ তা এককথায় অদ্বিতীয়। নিবন্ধ দ্ধিতা, বিশেষতঃ পণ্ডিতম্মন্য আত্মাভিমানী ব্যক্তিদের নির্বোধ আচরণকে নির্মল ব্যঙ্গের আঘাতে জর্জরিত করেছিলেন পোপ তাঁর আর একটি রচনা 'দি ডানসিয়াড' ( The Duuciad, 1728 ) - 4! পোপের অপরাপর কাব্যের মধ্যে নাম করা যায় 'অ্যান এসে অন ম্যান' (An Essay On Man ) ও হোরেসের অনুকরণে রচিত 'এপিস্ লসে' ( Epistles )। উপভোগ্য ব্যঙ্গাত্মক পত্র-কবিতা হিসাবে এই শ্রেণীভুক্ত 'Epistle to Dr. Arbuthnot' ( 1736) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তীক্ষমতা, ভারসাম্য ও শানিত বুদ্ধির দীপ্তি ছিলো পোপের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য !

